![]() |
| qbsujon |
শুরুটা একেবারেই সাধারণ ছিল, আমি কেবল জানতে চেয়েছিলাম।
না, কোনো বিদ্রোহের শখ ছিল না, মূর্তি ভাঙার মঞ্চেও উঠিনি। আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম, কে আছেন? সত্যিই আছেন তো?
বলা হয়, তিনি আছেন। কিন্তু কোথায়?
আমি চারদিকে তাকালাম। গায়ে সাদা জামা, মনের ভেতর কালো প্রশ্ন, আর চোখে পাথরের মতো এক টুকরো বিস্ময়। রাস্তায় হাঁটছি, কানে বাজছে লাউডস্পিকারে প্রার্থনার শব্দ। কিন্তু কিছুই বুঝতে পারছি না। এই যে সবাই এত আত্মবিশ্বাসে বলে, ঈশ্বর আছে, তারা কি দেখা পেয়েছে?
তারা বলে, বিশ্বাস করো।
আমি বলি, বিশ্বাস কেন করব?
তারা বলে, প্রশ্ন কোরো না। এ পাপ।
আমি বলি, প্রশ্নই যদি পাপ হয়, তবে উত্তরগুলো এত অসহায় কেন?
ধর্মের দোকানে ঢুকলাম। সেখানে পুজোর প্যাকেজ, উপবাসের ছাড়, দান করলে এক্সট্রা কৃপা ফ্রি, সবই আছে। শুধু নেই সেই যিনি দোকানের মালিক!
একজন বললেন, তিনি মাটির মধ্যে। আরেকজন বললেন, তিনি আকাশে। কেউ বললেন, জলেই তিনি, আবার কেউ বললেন, চোখে ধরা যায় না, মন দিয়ে দেখতে হয়।
আমি মন দিয়ে দেখতে চাইলাম।
কিন্তু মন তো বিভ্রান্ত! সে তো বিজ্ঞাপনে বিভোর, রঙিন পোশাকে আচ্ছন্ন। সে তো ঈশ্বর খোঁজে না, খোঁজে স্বস্তি, নিরাপত্তা আর লাভ।
আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম, ঈশ্বর কি তাহলে লাভজনক প্রতিষ্ঠান?
জিজ্ঞাসা করতেই কেউ আমার দিকে আগুন ছুঁড়ল। বলল, তুমি নাস্তিক? আমি বললাম, তুমি যে আস্তিক, তার প্রমাণ কী?
সে বলল, আমার বিশ্বাসই প্রমাণ।
আমি বললাম, তাহলে আমার সন্দেহই যুক্তি।
আমি দেখলাম, মানুষ প্রার্থনার নামে নিজেকে আশ্বস্ত করে। বিপদের সময় তাঁকে ডাকে, আর স্বস্তির সময় ভুলে যায়। ঈশ্বর যেন এমারজেন্সি সার্ভিস, ২৪ ঘণ্টা অন, কিন্তু কল রিসিভ হয় কদাচিৎ।
একবার এক ভক্ত বললেন, আমি মন্দিরে গিয়ে দান করেছি, এবার ব্যবসায় লাভ হবেই। আমি হাসলাম না, কাঁদিনি। শুধু ভাবলাম, যদি ঈশ্বর এতই লোভী হন, তবে শয়তান কেমন?
শুনেছি, ঈশ্বর বিচার করবেন। ভালোমন্দের হিসেব রাখেন।
কিন্তু এই যে ধর্ষিতা শিশু, এই যে বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া গরিব পরিবার, এদের অপরাধ কী ছিল?
আমাকে বলা হলো, এটা পরীক্ষা।
তাহলে প্রশ্ন করছি, কাকে প্রমাণ দিচ্ছে তারা? কোন পরীক্ষায়, কাদের সামনে, কিসের জন্য?
আমাকে বলা হলো, জন্মপূর্ব পাপের শাস্তি।
আমি বললাম, বিচার যদি হয় অতীতের নামে, তবে ভবিষ্যৎ জন্মে কী লাভ?
আমি আরও বুঝতে পারলাম, ঈশ্বরকে চুপ করানোর জন্য চারপাশে অনেক কথা বানানো হয়েছে। ঈশ্বর যেন এক অনুপস্থিত শিক্ষক, তাঁর নামে চলছে স্কুল, চলছে বেতন, চলছে শাসন। কিন্তু তিনি উপস্থিত হন না, কারণ প্রশ্ন করলে ক্লাস থেকেই বের করে দেয় সবাই।
আমি একদিন একটা দরজায় টোকা দিলাম। ভেতর থেকে বলল, ভক্তি নিয়ে এসো।
আমি বললাম, ভক্তি নেই, প্রশ্ন আছে।
তারা দরজা বন্ধ করে দিলো।
আমি বুঝলাম, ঈশ্বর নয়, ভয়ই এই সমাজের প্রধান ঈশ্বর।
ভয়! হারানোর, তিরস্কারের, মৃত্যুর।
তাই আমরা ঈশ্বর গড়েছি, যাতে ভয়কে শান্ত রাখা যায়।
আমরা নিয়ম বানিয়েছি, উৎসব বানিয়েছি, রীতিনীতি বানিয়েছি, যাতে ঈশ্বর খুশি থাকেন।
কিন্তু আমরা একবারও জিজ্ঞাসা করিনি, সত্যিই কি তিনি আছেন?
অন্য ধর্মের লোক বলল, আমার ঈশ্বরই আসল।
আরেকজন বলল, তোমারটা মিথ্যা, আমারটাই সত্য।
দুইজনই মারামারি করল। রক্ত পড়ল মাটিতে।
আর আকাশে বসে যদি সত্যিই কেউ থাকেন, তিনি নিশ্চয়ই কাঁদলেন।
আমার প্রশ্ন বাড়তে থাকলো।
যদি ঈশ্বর সবজান্তা হন, তাহলে তিনি দোষীদের আগে থেকে থামান না কেন?
যদি তিনি দয়ালু হন, তাহলে এত কষ্টের কী দরকার ছিল?
যদি তিনি বিচারক হন, তাহলে ধর্মের নামে খুনের বিচার কে করবে?
একজন বলল, তুমি বেশি ভাবো।
আমি বললাম, তুমি কম ভাবো।
একজন বলল, তুমি ঈশ্বর অবমাননা করছো।
আমি বললাম, তুমি ঈশ্বরকে প্রশ্নবিদ্ধ করছো, এত দুর্বল ধরে নিয়ে।
আমার স্ট্যাটাস এখানে থামে না। আমি কেবল বলতে চেয়েছি-
বিশ্বাস হোক, তবে প্রশ্নের উপর দাঁড়িয়ে।
ভক্তি হোক, তবে বুদ্ধির আলোয় আলোকিত।
ঈশ্বর হোক, তবে মানুষের ভেতরে, বাইরের ইমারতে নয়।
আমি জানি না, সত্যিই কেউ আছেন কিনা।
কিন্তু যদি থাকেন, তিনি নিশ্চয়ই ভয় চান না, প্রশ্ন চান।
তিনি নিশ্চয়ই প্রমাণ চান না, ভালোবাসা চান।
আমিও তাই চেয়েছিলাম।
শুধু জানতে।
#qbsujon ,#QB_SUJON
#আমি_শুধু_জানতে_চেয়েছিলাম
#ধর্মেরশেষঅস্ত্রভয়
#ভক্তিনয়যুক্তি
#FaithVsFear
#QuestionEverything

0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন